ইটোরিকক্সিব
জেনেরিক নাম
ইটোরিকক্সিব ৯০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট
প্রস্তুতকারক
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রস্তুতকারক (যেমন, মার্ক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস)
দেশ
বিশ্বব্যাপী
Loading images...
মূল্যের বিবরণ
বর্তমান বাজার মূল্যের তথ্য
| ভেরিয়েন্ট | একক মূল্য | পাতার মূল্য |
|---|---|---|
| etoricoxib 90 mg tablet | ১২.০০৳ | ১২০.০০৳ |
বর্ণনা
ওষুধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
ইটোরিকক্সিব একটি সিলেক্টিভ সাইক্লোঅক্সিজেনেস-২ (COX-2) ইনহিবিটর যা NSAID শ্রেণীর অন্তর্গত। এটি অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস এবং তীব্র গাউট-এর মতো অবস্থার ব্যথা ও প্রদাহ উপশম করতে ব্যবহৃত হয়।
ব্যবহার ও নির্দেশনা
ডোজ
বয়স্ক রোগী
সাধারণত ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন হয় না; তবে, বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে প্রতিকূল প্রভাবের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
কিডনি সমস্যা
হালকা কিডনি সমস্যা (CrCl ৩০-৮০ মি.লি./মিনিট): ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন নেই। মাঝারি থেকে গুরুতর কিডনি সমস্যা (CrCl <৩০ মি.লি./মিনিট): সুপারিশ করা হয় না।
প্রাপ্তবয়স্ক
অস্টিওআর্থ্রাইটিস: প্রতিদিন একবার ৩০ মি.গ্রা. বা ৬০ মি.গ্রা.। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস: প্রতিদিন একবার ৬০ মি.গ্রা. বা ৯০ মি.গ্রা.। তীব্র গাউটি আর্থ্রাইটিস: প্রতিদিন একবার ১২০ মি.গ্রা. (সর্বোচ্চ ৮ দিনের জন্য)। তীব্র ব্যথা/ডেন্টাল সার্জারি: প্রতিদিন একবার ৯০ মি.গ্রা. (সর্বোচ্চ ৩ দিনের জন্য)। প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়া: প্রতিদিন একবার ১২০ মি.গ্রা. (সর্বোচ্চ ৩ দিনের জন্য)। সর্বোচ্চ ডোজ প্রতিদিন ১২০ মি.গ্রা.।
কীভাবে গ্রহণ করবেন
মৌখিকভাবে সেবনের জন্য। খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া খাওয়া যেতে পারে। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অস্বস্তি কমানোর জন্য, এটি প্রায়শই খাবারের সাথে খাওয়ার সুপারিশ করা হয়। ট্যাবলেটটি এক গ্লাস জল দিয়ে পুরো গিলে ফেলুন।
কার্যপ্রণালী
ইটোরিকক্সিব সাইক্লোঅক্সিজেনেস-২ (COX-2) এনজাইমকে বেছে বেছে বাধা দেয়, যা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সংশ্লেষণের জন্য দায়ী। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ব্যথা, প্রদাহ এবং জ্বরের মধ্যস্থতাকারী। COX-2 কে বাধা দিয়ে, ইটোরিকক্সিব প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন উৎপাদন কমায়, যার ফলে ব্যথা এবং প্রদাহ উপশম হয়।
ফার্মাকোকাইনেটিক্স
শোষণ
মৌখিকভাবে সেবনের পর দ্রুত শোষিত হয়, প্রায় ১ ঘন্টার মধ্যে সর্বোচ্চ প্লাজমা ঘনত্বে পৌঁছায়।
নিঃসরণ
প্রাথমিকভাবে কিডনি (প্রায় ৭০% মেটাবোলাইট হিসাবে) এবং মলের মাধ্যমে (প্রায় ২০% মেটাবোলাইট হিসাবে) নির্গত হয়।
হাফ-লাইফ
প্রায় ২২ ঘন্টা।
মেটাবলিজম
সাইটোক্রোম পি৪৫০ এনজাইম (প্রাথমিকভাবে CYP3A4) দ্বারা ব্যাপকভাবে নিষ্ক্রিয় মেটাবোলাইটে রূপান্তরিত হয়।
কার্য শুরু
তীব্র অবস্থায় সাধারণত ২৪ মিনিটের মধ্যে এবং দীর্ঘস্থায়ী অবস্থায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্যথা উপশম শুরু হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
প্রতিনির্দেশনা
- •ইটোরিকক্সিব বা ফর্মুলেশনের যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা
- •সক্রিয় পেপটিক আলসারেশন বা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রক্তপাত
- •গুরুতর হেপাটিক ডিসফাংশন
- •গুরুতর রেনাল ইমপেয়ারমেন্ট (ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স <৩০ মি.লি./মিনিট)
- •প্রদাহজনক অন্ত্রের রোগ
- •কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিউর (NYHA ক্লাস II-IV)
- •প্রতিষ্ঠিত ইস্কেমিক হৃদরোগ, পেরিফেরাল আর্টারিয়াল ডিজিজ এবং/অথবা সেরিব্রোভাসকুলার ডিজিজ
- •গর্ভাবস্থা এবং স্তন্যদান
ওষুধের মিথস্ক্রিয়া
লিথিয়াম
প্লাজমা লিথিয়ামের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা বিষাক্ততার কারণ হতে পারে।
ওয়ারফারিন
রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিবিড় INR পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
ডাইউরেটিকস
সোডিয়াম নির্গমনের প্রভাব কমাতে পারে এবং কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
মেথোট্রেক্সেট
রেনাল ক্লিয়ারেন্স কমে যাওয়ার কারণে মেথোট্রেক্সেটের বিষাক্ততা বাড়াতে পারে।
মৌখিক গর্ভনিরোধক
ইথিনাইলস্ট্রাডিওলের প্লাজমা ঘনত্ব বাড়াতে পারে, সম্ভাব্য প্রতিকূল প্রভাব বৃদ্ধি করে।
এসিই ইনহিবিটরস/এআরবিস
অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ প্রভাব কমাতে পারে এবং কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুষ্ক স্থানে, সরাসরি আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত
অতিরিক্ত মাত্রার লক্ষণগুলি সাধারণত হালকা হয় এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা (যেমন, বমি বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা) এবং কিডনি সমস্যা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ব্যবস্থাপনা সহায়ক এবং লক্ষণভিত্তিক; কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। যদি সম্প্রতি সেবন করা হয় তবে গ্যাস্ট্রিক ডিকন্টামিনেশন (যেমন, সক্রিয় কাঠকয়লা) বিবেচনা করা যেতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ভ্রূণের ডাক্টাস আর্টেরিওসাস অকাল বন্ধ হওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে এটি প্রতিনির্দেশিত। স্তন্যদানকালে সুপারিশ করা হয় না কারণ ইটোরিকক্সিব বুকের দুধে নিঃসৃত হয়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
এই ওষুধ সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন
প্যাক সাইজ
মেয়াদ
সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে সাধারণত উৎপাদনের তারিখ থেকে ২-৩ বছর।
প্রাপ্যতা
ফার্মেসী, হাসপাতাল
অনুমোদনের অবস্থা
অনেক দেশের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ দ্বারা অনুমোদিত (যেমন, ইএমএ, বাংলাদেশে ডিজিডিএ)
পেটেন্ট অবস্থা
বেশিরভাগ বাজারে পেটেন্ট মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, যা জেনেরিক সংস্করণ অনুমোদন করে
বাংলাদেশে বিকল্প ওষুধ
বাজারে পাওয়া যায় এমন অনুরূপ ওষুধ
বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ড নাম
এই ওষুধের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড নাম
ইটোরিকক্সিব ব্র্যান্ডের অন্যান্য ওষুধ
একই ব্র্যান্ড নামের অধীনে উপলব্ধ অন্যান্য ওষুধ
আরও ওষুধ
অন্যান্য ওষুধ দেখুন যা আপনার আগ্রহের হতে পারে


